বন্যা ও ভারী বৃষ্টি: আগাম পূর্বাভাস থাকলেও মাঠে কার্যকর প্রস্তুতির ঘাটতি
- আপডেট সময় : ১১:২৪:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের আগাম পূর্বাভাস থাকলেও মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগ বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো গত ১ জুলাই থেকেই অতিবৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছিল। তবে আগাম ত্রাণ মজুত, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, উদ্ধার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা, চিকিৎসা দল সক্রিয় করা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রস্তুতি পর্যাপ্ত ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জসহ ৭ জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে। বন্যা, পাহাড়ধস ও সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের দুর্যোগ কেবল প্রাকৃতিক নয়; আগাম প্রস্তুতির ঘাটতি, দুর্বল সমন্বয়, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং উদ্ধার কার্যক্রমে বিলম্বও ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, আবহাওয়া ও বন্যার পূর্বাভাস সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করা প্রয়োজন, যাতে মানুষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অনেক এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও মানুষকে সেখানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ ছিল না। কোথাও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত ছিল না, আবার কোথাও চিকিৎসা দল ও ত্রাণসামগ্রী সময়মতো পৌঁছায়নি। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শিশুখাদ্য ও ওষুধের সংকটও দেখা দিয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বন্যা পরিস্থিতি শুরু হয় ৫ জুলাই। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সাত জেলার জন্য প্রথম দফায় ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয় ১২ জুলাই। প্রথম পর্যায়ে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও ৩ হাজার ২৫০ টন চাল। পরে আরও ৫৭ জেলার জন্য অতিরিক্ত ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ৫ হাজার ৭০০ টন চাল বরাদ্দ করা হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বর্তমান বরাদ্দ দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবির পাশাপাশি নৌ ও বিমানবাহিনীর সহায়তা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান দাবি করেছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে কাজ চলছে। অন্যদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, অনেক মানুষকে আগেভাগে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ করা হলেও সবাই সেখানে যেতে রাজি হননি।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র নতুন করে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৯ জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা জানিয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়া অধিদপ্তর ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।











